তৈয়ব স়ালিহ্ এর
উত্তরে দেশান্তরের মৌসুম
এই গ্রন্থটি বিংশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরবী উপন্যাস হিসেবে আরবী সাহিত্য আকাদেমি কর্তৃক ২০০১ সালে মনোনীত প্রথিতযশা স়ুদানী ঔপন্যাসিক তৈয়ব স়ালিহ্র ১৯৬৬ সালে আরবী ভাষায় প্রকাশিত মাও্স়িমুল্ হিজ্রাতি ইলাশ্ শামাাল্ উপন্যাসটির বঙ্গানুবাদ।
বহু ভাষাবিদ
ইস়ফ়ানদিয়র
আরিওন
অনুবাদক ইস়ফ়ানদিয়র আরিওন উপন্যাসটি অনুবাদ করেই ক্ষান্ত হন নি। আরবী উপন্যাসের উৎসুক পাঠকদের জন্য উপহার হিসেবে গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন দীর্ঘ এক পাঠ-অভিজ্ঞতা যাতে উত্তর-ঔপনিবেশিক সমালোচনা পদ্ধতির নানা দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে উপন্যাসটির আধেয় বিশ্লেষণ করার প্রয়াস পেয়েছেন তিনি।
ধ্রুপদী বাংলা, বিশ্বসাহিত্য, নতুন লেখক—সবাইকে একত্র করে বঙ্গবিহার।
বঙ্গবিহার
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক গবেষণা, সম্পাদনা ও প্রকাশনার উদ্যোগ নিয়েছে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মোৎসর্গী বাঙালীর হাজার বছরের সাহিত্যচর্চা ও ভাষার বিকাশকে ভিত্তি করে এর যাত্রা শুরু হয় ১৪৩২ বঙ্গাব্দের ফাল্গুনে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
বই সম্পর্কে
উত্তরে দেশান্তরের মৌসুম শিরোনামের এই গ্রন্থটি বিংশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরবী উপন্যাস হিসেবে আরবী সাহিত্য আকাদেমি কর্তৃক ২০০১ সালে মনোনীত প্রথিতযশা স়ুদানী ঔপন্যাসিক তৈয়ব স়ালিহ্র ১৯৬৬ সালে আরবী ভাষায় প্রকাশিত মাও্স়িমুল্ হিজ্রাতি ইলাশ্ শামাাল্ উপন্যাসটির বঙ্গানুবাদ। মূল গ্রন্থের ভাষা ও আখ্যান কোথাও আলগা না করে মূলের প্রতি পরিপূর্ণ সৎ থেকেও, আবার আক্ষরিক অনুবাদ দোষে দুষ্ট না হয়েও মূল ভাষা ও উদ্দিষ্ট ভাষার যুগলবন্দী কারুকাজ পরিদৃষ্ট হয় এই অনুবাদগ্রন্থের পাতায় পাতায়।
পূর্ব ও পশ্চিমের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিয়ে আরবী ভাষায় বেশ কয়েকটি উপন্যাস রচিত হয়েছে। দ্বন্দ্ব নিরসনের কিছু দিক্নির্দেশনাও আমরা সেগুলোতে পাই। কিন্তু তৈয়ব স়ালিহ্ আদর্শিক ও সরলীকৃত সেসব প্রস্তাবনা থেকে সরে এসে উপনিবেশক ও উপনিবেশিতের মধ্যকার সম্পর্ককে স্পষ্টরূপে তলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন এই উপন্যাসে। আর অনুবাদক ইস়ফ়ানদিয়র আরিওন উপন্যাসটি অনুবাদ করেই ক্ষান্ত হন নি। আরবী উপন্যাসের উৎসুক পাঠকদের জন্য উপহার হিসেবে গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন দীর্ঘ এক পাঠ-অভিজ্ঞতা যাতে উত্তর-ঔপনিবেশিক সমালোচনা পদ্ধতির নানা দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে উপন্যাসটির আধেয় বিশ্লেষণ করার প্রয়াস পেয়েছেন তিনি।
বিগত শতাব্দীতে যেসব জাতি উপনিবেশের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে এসেছে সবার ক্ষেত্রেই এই সংস্পর্শ রক্তাক্ত ও সুদীর্ঘ সংগ্রামে রূপ নিয়েছে। উপনিবেশের নগ্ন নখর থেকে মুক্ত হয়েও তারা দশকের পর দশক এই ক্ষত বহন করে চলেছে। আত্মপরিচয়ের সংকটে নিমজ্জিত ও বিভাজিত, আপন/অপরের দ্বন্দ্বে দিশাহীন জাতিগুলোর উত্তর-ঔপনিবেশিক চরিত্রের সন্ধান দানে বঙ্গবিহার শাশ্বত সাহিত্য ধারার পয়লা উপন্যাস উত্তরে দেশান্তরের মৌসুম একখানি অবশ্যপাঠ্য বই।
লেখক পরিচিতি
১৯২৯ সালের ১২ই জুলাই স়ুদানের আল-শামালিই্য়া প্রদেশের কার্মাকুল নামের সাধারণ একটি গ্রামে তৈয়ব স়ালিহ্র জন্ম। গ্রামটি নিল নদের তীরে অবস্থিত এবং সেখানে রিকাবিই্য়া নামের একটি গোত্র বসবাস করে। তাঁর পরিবার এই গোত্রভুক্ত। পরিবারটি মেষ চড়ানো, খেজুর সংগ্রহ, কৃষি ও ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে জড়িত ছিল। তাঁর পুরো নাম আল-তাইয়িব মুহাম্মদ স়ালিহ্ আহমাদ। তিনি পিতামাতার একমাত্র সন্তান। তিনি গ্রামের খালওয়ায় কোরআন শিক্ষা করেন, লিখতে ও পড়তে শেখেন। খালওয়া হল আরব দেশগুলোতে প্রচলিত মক্তব। আট বছর বয়সে শিশুশ্রেণীতে ভর্তি হন।
১৯৩৯ সালে নিজ-এলাকা পরিত্যাগপূর্বক পোর্ট্ স়ুদান শহরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে উম-দুর্মানে গিয়ে ওয়াদি স়াই্য়িদিনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তখন একমাত্র তিনিই স্বীয় অঞ্চল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমাপ্তির সনদ অর্জন করেন। এরপর খুর্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গর্ডন ম্যামোরিয়াল কলেজে কৃষিবিদ্যা বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। কিন্তু এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করতে পারেন নি।
১৯৫২ সালে লন্ডন গমন করেন ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ে অধ্যয়ন সমাপ্ত করে ১৯৫৩ সালে বিবিস়ি রেডিয়োতে পাণ্ডুলিপি লেখক পদে যোগ দান করেন। দীর্ঘ সময় এখানে কাজ করে ১৯৬০ সালে নাট্য বিভাগের পরিচালক পদে উন্নীত হন। ১৯৬৫ সালে লন্ডনে জুলিয়া ম্যাকলিনকে বিয়ে করেন। তাঁদের তিনটি কন্যাসন্তান— জ়য়নব, স়ারা ও স়ামিরা।
তাঁর রচিত উপন্যাস অবলম্বনে কুয়েতী নির্মাতা খালিদ স়াদিক-নির্মিত স়িনেমা ‘জ়েইনের বিয়ে’ ১৯৭৬ সালে কান ফ়িল্ম্ ফ়েস়্টিবল অ্যাওয়ার্ড্ লাভ করে। ২০০৪ সালে তিনি মিসর কর্তৃক Third Arab Conference Prize লাভ করেন। লন্ডনে ১৮ই ফেবরুয়ারি ২০০৯ সালে তিনি বৃক্কবৈকল্যরোগে মৃত্যু বরণ করেন। উম-দুর্মানে তাঁকে শায়িত করা হয়।
তৈয়ব স়ালিহ্ ৩টি উপন্যাস, ২টি গল্পগ্রন্থ, কয়েকটি স্মৃতিকথা, ভ্রমণগ্রন্থ ও প্রবন্ধগ্রন্থ রেখে গেছেন।
ইস়ফ়ানদিয়র আরিওন
প্রধানত বহুভাষিক।
ভাষার হাত ধরেই সাহিত্য-সরস্বতীর বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন। ১৩ বছর বয়স থেকেই বিদ্যালয়ের পাঠের অন্তর্ভুক্ত নানান বিষয় ও গণিতকে আরবীতে রূপান্তর করতে করতে এবং নিজের তৈরী করা এক গোপন লিপির চর্চার ভেতর দিয়ে বহুভাষিকতার গোড়াপত্তন। কোনো প্রতিষ্ঠানের ছায়া না মাড়িয়েই শিখেছেন চোস্ত আরবী, ফ়ারস়ী, উর্দু ও হিন্দী। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিখেছেন জর্মন, ফরাসী, রুশ ও চিনা। হিব্রু, ইউনানী, সংস্কৃত, পালি ও লাতিনের মতো ভাষাও তাঁর প্রতিদিনকার পাঠের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। ছোটোকালেই ব্রাহ্মী, আভেস্তা, পাহলভী, নেওয়ারী, আরামীসহ পঞ্চাশের মতো লিপিপঠনে অভ্যস্ততা অর্জন করেন। প্রথম কবিতা রচনা আরবী ভাষায়।
হাওয়াই জমিন: www.izfandiorarion.com